"উট" সম্পর্কে জানা-অজানা বিস্ময়কর তথ্য
উটের দিকে কি তাকিয়ে দেখছ, কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে
১ ) উট এক মহাবিস্ময় প্রানী, "উট" ৫৩ ডিগ্রি গরম এবং মাইনাস-১ ডিগ্রি প্রচুর শীতেও লরাইয় করে টিকে থাকে।
২) মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর উপর "উট" ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা ফেলে রাখতে পরে এতে "উট" এর কোন সমস্যা হয় না।
৩) পানি পান না করে মাসের পর মাস পার করতে পারে।
৪) মরুভূমির বড় বড় ক্যাকটাস ও কাঁটাসহ গাছ খেয়ে ফেলতে পারে।
৫) ১৫০কেজি ওজন পিঠে নিয়ে শত মাইল চলতে পারে।
উটের মত এত সুন্দর প্রাণী আর একটি ও নেয় ।মানুষসহ বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর আশেপাশে থাকে। যদি দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে ৩৮.৫ ডিগ্রির (১০২ ফা) বেশি হয়ে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হতে থাকে। ৪০ ডিগ্রির (১০৪ ফা) বেশি হয়ে গেলে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক, খাদ্যতন্ত্র ব্যাপক ক্ষতি হয়।
একারণেই যখন প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন শরীর ঘেমে বাড়তি তাপ বের হয়ে ঠাণ্ডা হয় ।
কিন্তু উটের জন্য পানি অপচয় করা এক বিলাসিতা । কারণ মরুভূমিতে সবথেকে দুর্লভ সম্পদই হচ্ছে পানি। একারণে উটের শরীরে বিশেষ ব্যবস্থা করা রয়েছে রয়েছে। ভোরবেলা উট এর শরীরের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি হয়ে থাকে। তারপর আবহাওয়া যখন প্রচণ্ড গরম হয়ে যায়, তখন অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে ৪১ ডিগ্রি (১০৪ ফা) পর্যন্ত ওঠে। এর পর থেকে এটি ঘামা শুরু করে।
এর শরীরের ভেতরে ব্যবস্থা রাখা আছে, যেন তা দিনের পর দিন ভীষণ জ্বর সহ্য করার পরেও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি না হয়। উটের রক্ত বিশেষভাবে তৈরি প্রচুর পরিমাণে পানি ধরে রাখার জন্য।
উট প্রায় ১৩০ লিটার পানি এক ভারে খেয়ে ফেলে যা প্রায় তিনটি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের সমান,যা মাতর ১০ মিনিটের মধ্যে খেয়ে ফেলে ।
উটের রক্তে এক বিশেষ আবরণ আছে তার কোষে, তাই বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। এই বিশেষ রক্তের কোষে জন্যই এত পানি পান করতে পারে।
খাবার ও পানি এই ভাবে খাওয়ার পর একটি উট প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত খাবার বা পানি না খেয়ে টিকে থাকে।এই শক্তিশালী প্রাণী টি এত শান্ত ও অনুগত হওয়ার কথা ছিল না।
বরং এরকম স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাণীর হিংস্র হওয়ার কথা, যেন কেউ তাকে ঘাঁটানোর সাহস না করে। বিবর্তনবাদীদের বানানো বহু নিয়ম ভঙ্গ করে এই প্রাণীটি কোনো কারণে নিরীহ, শান্ত, মানুষের প্রতি অনুগত হয়ে গেছে।
উটকে যদি এই ভাবে সৃষ্টি করে না বানাতেন আল্লাহ তাহলে মরুভূমিতে মানুষের সভ্যতা গড়ে তোলা অসম্ভব ছিল।
উটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হলো কাটা যুক্ত গাছপালা চিবানোর ক্ষমতা, যা অন্য কোনো প্রাণীর নেই। বড় বড় কাঁটাসহ ক্যাকটাস এটি সাবাড় করে দিতে পারে।
উটের মুখের ভেতরে এক বিস্ময়কর ব্যবস্থা রয়েছে। এর মুখের ভেতরের দিকটাতে অজস্র ছোট ছোট শক্ত আঙ্গুলের মত ব্যবস্থা রয়েছে, যা কাটার আঘাত থেকে একে রক্ষা করে। এমন এক জিভ আছে যা কাঁটা ফুটো করতে পারে না।
এদের চোখে দুই স্তর পাপড়ি আছে। এই জন্য মরুভূমিতে ধূলার ঝড়ের সময় খোলা রাখতে পারে। পাপড়ির ব্যবস্থা চশমার মত করে কাজ করে । রোদের থেকে চোখকে রক্ষা করতে এবং চোখের আদ্রতা ঠিক রাখেতে।এটি বিশেষভাবে বাঁকা যেন তা ধুলোবালি আটকাতে পারে।
*কেমন লাগলো জানাবেন কমেন্টে।*

nice
ReplyDeleteThanks